মিজানুর রহমান, বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের প্রত্যান্ত হাওর অঞ্চল ও সীমান্তভর্তী জেলা হিসাবে সুনামগঞ্জ জেলা অন্যতম। এ জেলায় শিক্ষার হার অত্যান্ত কম। ভৌগলিক অবস্থানের দিক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা যোগাযোগের ক্ষেত্রে খুবই হযবরল অবস্থা। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে পায়ে হেটে চলা চল করতে হয় আবার বর্ষা মৌসমে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। এ জেলায় বিভিন্ন হাট বাজারে গ্রামের পয়েন্টে এমনকি গ্রামের বিতরেও বেঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে উটেছে ফার্মেসী নামক ঔষধের দোকান। আধা শিক্ষিত হাতুড়ি ডাক্তার দ্বারা এই ফার্মেসী নামক ঔষধের দোকান পরিচালিত হচ্ছে। এ ফার্মেসীগুলোতে নামীদামী কোম্পানীর কার্যকর ঔষধ না রেখে বেনামী বেজাল ঔষধ ও নকল ঔষধ বিক্রয় হচ্ছে দেধারছে। এ ঔষধ খেয়ে রোগ মুক্তির চেয়ে রোগ আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। বাংলাদেশের গ্রাম ডাক্তার সমিতির নামে কোন প্রশিক্ষণ ছাড়াই এই ঔষধের দোকান সাজিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে গরিব অসহায় অশিক্ষিত মানুষের সরল প্রাণ। চিনিমিনি খেলা হচ্ছে গ্রামের অসহায় মানুষদের প্রাণ নিয়ে। অসুখ হলে নির্ভশীল হতে হয় ঔষধের উপর। অসুখ থেকে বাচার প্রধান উপায় হচ্ছে কার্যকর ঔষধ ব্যবহার। কিন্তু এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে জীবন রক্ষাকারী ঔষধ এখন হয়ে যাচ্ছে বিপদ জনক। সমাজের বিশেষজ্ঞরা এবং সাধু মহল বলছে – এ সমস্থ অঞ্চলে রোগ মুক্তির চেয়ে মৃত্যুর ঝুকি বারছে। গ্রাম অঞ্চল, হাওর অঞ্চল এবং সীমান্ত অঞ্চলে নকল ভেজাল ঔষধে ব্যবহার খুবিই বেশি। এক শ্রেণীর সিন্ডিক্যাট ব্যবসায়ীদের কুমতলবে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে গ্রামের পাড়া মহল্লা পর্যন্ত এই নি¤œ মানের ভেজাল ঔষধ ছড়িয়ে দিয়েছে। গ্রাম অঞ্চল, হাওর অঞ্চল ও সীমান্ত অঞ্চলের কিছু কিছু ফর্মেসীর মালিকেরা ঔষধ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা ছাড়াই ঔষধের দোকান খোলে বসে আছেন ডাক্তার সেজে। এমন কি ফর্মেসী চালানোর জন্য ফার্মাসিষ্ট ও ডাক লাইসেন্স এর তুয়াক্কা না করে ঔষধ বিক্রয় করছে নির্বিধায়। সর্দি, কাশি থেকে শুরো করে মরণবাধী ক্যান্সারের ঔষধ পর্যন্ত বিক্রয় করছে ঐ নামদারী মফসল অঞ্চলের ডাক্তারেরা। মূলত ঔষদ নিয়ন্তন সংস্থাটির খাফলিকথার কারণে অত্র অঞ্চলে মিয়াদ উত্তিন বেজাল ঔষধ এবং সার্টিফিকেট ছাড়া ডাক্তার সেজে ফার্মিসী ব্যবসার নামে রোগীদের জীবন নিয়ে চিনিমিনি খেলছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। অন্য দিকে এক শ্রেণীর সিন্ডিক্যাট ব্যবসায়ীরা টার্গেক ধরে ঐ অঞ্চলে তাদের রমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। অত্র অঞ্চলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ব্যক্তিরা মাঝে মধ্যে মোবাইল কোড এর মাধ্যমে অভিজান চালালেও তাদের এই ব্যবসাকে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের আড়ালেই ঐ চক্রটি তাদের কার্জ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়- সারা দেশে প্রায় কয়েক হাজার মডেল ফার্মেসী এবং মডেল মেডেসিন এর দোকান নির্মাণাধীন। যে গুলোর মধ্যে মান সম্মত ঔষধ বিক্রয় করবে বলে প্রতিশ্রæতি বন্ধ। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব চিত্র উলটু। ঔষধ প্রশাসন কর্তৃক নির্দেশীত মেয়াদ উত্তিন ঔষধ বাইল থেকে নামিয়ে আদালা জায়গায় রাখতে হবে। ঐ ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানির লোকদের হাতে দূত হস্থান্তর করতে হবে এবং রেজিষ্টার খাতা লিপি বদ্ধ রাখতে হবে। ফর্মেসীতে যাদি মেয়াদ উত্তিন ঔষদ পাওয়া যায় তা হলে ঐ ফার্মেসী সীলগালা সহ বন্ধ করে দেওয়ার নিদের্শ আছে। এমনকি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করারও বিদান আছে। ঔষধ নিয়ন্ত্রন সংস্থাটি এ দায়িত্ব পালন করে থাকে। এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর টিএইচ চৌধুরী ডাক্তার জালাল উদ্দিন মুর্শেদ জানান, এ বিষয়ে সুনিদিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানান, “বেজাল ও মেয়াদ উত্তিন নকল ঔষধ ঠেকাতে আমাদের মোবাইল কোড অভিজান চলমান।” তার পরেও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত কঠুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/৮ আগষ্ট ২০২০/ইকবাল